সুবর্ণচরে অবৈধ দুই ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিল উপজেলা প্রশাসন

লেখক:
প্রকাশ: 1 month ago

নিজস্ব প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের দায়ে দুটি অবৈধ ইটভাটা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে ভাটার মালিকদের কাছ থেকে মোট ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) নোয়াখালী জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর ও সুবর্ণচর উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে উপজেলার চর জুবিলী ইউনিয়নের চর বাগ্যাস্থ মেসার্স আল্লারদান ব্রিকস (এ.ডি.বি. ব্রিকস) এবং চর জব্বার ইউনিয়নের পশ্চিম চরজব্বর এলাকায় অবস্থিত মাহিন ব্রিকস (আলিফ ব্রিকস)–এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মোবাইল কোর্ট চলাকালে ইটভাটাগুলোর কিলন ও চিমনি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং পানি দিয়ে চিমনির আগুন সম্পূর্ণভাবে নিভিয়ে দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) অনুযায়ী আইন লঙ্ঘনের দায়ে মেসার্স আল্লারদান ব্রিকসকে ১ লক্ষ টাকা এবং মাহিন ব্রিকসকে ১ লক্ষ টাকা—মোট ২ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট ছেনমং রাখাইন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নুর হাসান সজীব, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি টিম, চরজব্বার থানা পুলিশ এবং সুবর্ণচর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

জানা যায়, এর আগেও যৌথ অভিযানে উক্ত দুটি ইটভাটা ভেঙে দিয়ে ভাটা পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করায় এবার অর্থদণ্ডসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মিহির লাল সরদার জানান, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে সরকারের নির্দেশনা ও মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়নে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, বিগত কয়েক বছরে রাজনৈতিক প্রভাবে সুবর্ণচর উপজেলায় একাধিক অবৈধ ইটভাটা গড়ে ওঠে। এসব ভাটায় কাঠ পোড়ানো, বনভূমি উজাড় এবং আবাদযোগ্য জমির টপ সয়েল কেটে নেওয়ার ফলে কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং বিভিন্ন সময় সামাজিক সংগঠন মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।