নিজস্ব প্রতিবেদনঃ নোয়াখালীর জন্য এটি এক ঐতিহাসিক অর্জন। মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে ওঠা নতুন নতুন চর সরকারি স্বীকৃতি পাওয়ায় বাংলাদেশের মানচিত্রে যুক্ত হয়েছে নতুন ভূমি। ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব চরকে মৌজা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করায় নোয়াখালীর আয়তন বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আঞ্চলিক নামেই মৌজা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া চরগুলো হলো— জাহাজির চর, চর মিল্টন, মেঘনার ঢাল, চর ইমরান, চর সাহেবানী, দিলাল রাজার চর ও চর রেজাউল।
নতুন চর যুক্ত হওয়া নোয়াখালীবাসীর জন্য আনন্দ ও গর্বের হলেও এর বিপরীতে মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন উপকূলবাসীর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম ও নদীর প্রবল স্রোতের কারণে সুবর্ণচর, হাতিয়া ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় শত শত একর আবাদি জমি, বসতভিটা ও রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, একদিকে মেঘনার ভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে তারা নিঃস্ব হচ্ছেন, অন্যদিকে নতুন চর জেগে উঠলেও সেখানে বসবাস ও চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও নিরাপত্তা না থাকায় তারা উপকার পাচ্ছেন না। ফলে চর জাগা ও ভূমি সংযোজনের সুফল পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
সচেতন মহলের মতে, নতুন চরগুলোকে মৌজা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি মেঘনা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, তীর সংরক্ষণ ও নদী শাসন কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে নতুন চরগুলোতে পরিকল্পিত বসতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
আগামী প্রজন্মের জন্য এই ভূমি সংযোজন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও, মেঘনা নদীর ভাঙন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে উপকূলীয় জনপদের ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সবশেষে প্রাকৃতিক এই দান ও চর জাগার জন্য মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ জানানো হয়।